ইউপিএসসি-র সিডিএস-টু পরীক্ষার মাধ্যমে ৩ বাহিনীতে ৩৪৪ অফিসার
আমার বাংলা অনলাইন নিউজ ডেস্ক: ট্রেনিং দিয়ে, অফিসার পদে ৩৪৪ গ্র্যাজুয়েট তরুণ-তরুণীকে নিচ্ছে ভারতীয় সেনা, নৌবাহিনী এবং বায়ুসেনায়।তরণীরা কেবল অফিসার্স ট্রেনিং অ্যাকাডেমি (নন-টেকনিক্যাল) কোর্সে আবেদন করতে পারবেন। ট্রেনিংয়ে সফলদের চাকরি হবে। কম্বাইন্ড ডিফেন্স সার্ভিস এক্সামিনেশন-টু ২০২০ -এর মাধ্যমে প্রার্থিবাছাই করবে ইউনিয়ন পাবলিক সার্ভিস কমিশন। এই পরীক্ষা হবে ৮ নভেম্বর।
এয়ারফোর্স অ্যাকাডেমি: ২১০ এফ (পি) (প্রি-ফ্লাইং) ট্রেনিং কোর্স শুরু হবে আগামী বছরের জুলাই মাসে। মোট শূন্যপদ ৩২টি। এরমধ্যে থেকে এনসিসি স্পেশ্যাল এন্ট্রির মাধ্যমে এনসিসি “সি” সার্টিফিকেট (এয়ার উইং) কোর্স পাশদের জন্য শূন্যপদ ৩টি। গ্র্যাজুয়েট ডিগ্রিধারীরা উচ্চমাধ্যমিক স্তরে ফিজিক্স এবং অঙ্ক নিয়ে পড়ে থাকা তরণরাই কেবল এই কোর্সের জন্য আবেদন করতে পারবেন। ইঞ্জিনিয়ারিং গ্র্যাজুয়েট তরুণরাও আবেদনের যোগ্য। বয়স হতে হবে ১-৭-২০২১ তারিখের হিসেবে ২০ থেকে ২৪ বছরের মধ্যে। কাজেই জন্মতারিখ হতে হবে ১-৭-১৯৯৭ থেকে ১-৭-২০০১ -এর মধ্যে। তবে ডিরেক্টরেট জেনারেল অফ সিভিল অ্যাভিয়েশন স্বীকৃত কারেন্ট কমার্শিয়াল পাইলট লাইসেন্সধারীদের ক্ষেত্রে বয়সের উর্ধ্বসীমা ২৬ বছর। কাজেই জন্মতারিখ হতে হবে ২-৭-১৯৯৫ থেকে ১-৭-২০০১ -এর মধ্যে। ২৫ বছরের কমবয়সী হলে প্রার্থীকে অবিবাহিত হতে হবে। তবে প্রার্থীরা ট্রেনিং চলাকালীন বিবাহ করতে পারবেন না। তবে ২৫ বছরের বেশি বয়সী প্রার্থীরা বিবাহিত হলেও যোগ্য। তবে তাঁরা ট্রেনিং চলাকালীন পরিবারের সঙ্গে থাকতে পারবেন না। ইন্ডিয়ান এয়ারফোর্স অ্যাকাডেমি, হায়দরাবাদ।
ইন্ডিয়ান মিলিটারি অ্যাকাডেমি এবং অফিসার্স ট্রেনিং অ্যাকাডেমি: ইন্ডিয়ান মিলিটারি অ্যাকাডেমি, দেরাদুনের ১৫১তম (ডিই) কোর্স আগামী বছরের জুলাই মাসে। মোট শূন্যপদ ১০০টি। এরমধ্যে থেকে এনসিসি “সি” সার্টিফিকেটধারীদের শূন্যপদ ১৩টি। অফিসার্স ট্রেনিং অ্যাকাডেমি, চেন্নাইয়ের ১১৪তম এসএসসি (মেন) (নন-টেকনিক্যাল) (ইউপিএসসি) কোর্সটি শুরু হবে আগামী বছরের অক্টোবর মাসে। মোট শূন্যপদ ১৬৯টি। অফিসার্স ট্রেনিং অ্যাকাডেমি, চেন্নাইয়ের ২৮তম এসএসসি (উইমেন) (নন-টেকনিক্যাল) (ইউপিএসসি) কোর্সটি শুরু হবে আগামী বছরের অক্টোবর মাসে। মোট শূন্যপদ ১৭টি। যে কোনও শাখার গ্র্যাজুয়েট এবং অবিবাহিত তরুণরাই কেবল এই কোর্সের জন্য আবেদন করতে পারবেন। অন্যদিকে, অফিসার্স ট্রেনিং অ্যাকাডেমিতে শর্ট সার্ভিস কমিশন কোর্সে কেবল অবিবাহিত তরুণরাই আবেদন করতে পারবেন। শর্ট সার্ভিস কমিশন উইমেন (নন-টেকনিক্যাল) কোর্সে অবিবাহিত তরুণী, বিধবা এবং বিবাহবিচ্ছিন্নারা (আবার বিয়ে না করে থাকলে) আবেদন করতে পারবেন। ইন্ডিয়ান মিলিটারি অ্যাকাডেমির ক্ষেত্রে জন্মতারিখ হতে হবে ২-৭-১৯৯৭ থেকে ১-৭-২০০২ -এর মধ্যে। অফিসার্স ট্রেনিং অ্যাকাডেমির শর্ট সার্ভিস কমিশন কোর্সের তরুণদের ক্ষেত্রে জন্মতারিখ হতে হবে ২-৭-১৯৯৬ থেকে ১-৭-২০০২ -এর মধ্যে এবং উইমেন (নন-টেকনিক্যাল) কোর্সের তরুণীদের ক্ষেত্রে জন্মতারিখ হতে হবে ২-৭-১৯৯৬ থেকে ১-৭-২০০২ -এর মধ্যে।
ইন্ডিয়ান ন্যাভাল অ্যাকাডেমি: ইঝিমালায় এক্সিকিউটিভ (জেনারেল সার্ভিস)/ হাইড্রো ক্যাডারের এই কোর্সটি শুরু হবে আগামী বছরের জুলাই মাসে। মোট শূন্যপদ ২৬টি। এরমধ্যে থেকে এনসিসি “সি” (ন্যাভাল উইং) সার্টিফিকেটধারীদের জন্য শূন্যপদ ৬টি। যে কোনও শাখার ইঞ্জিনিয়ারিং গ্র্যাজুয়েট এবং অবিবাহিত তরুণরা কেবল আবেদন করতে পারবেন। জন্মতারিখ হতে হবে ২-৭-১৯৯৭ থেকে ১-৭-২০০২ -এর মধ্যে।
চূড়ান্ত বর্ষের/ সেমিস্টারের প্রার্থীরাও শর্তসাপেক্ষে আবেদনের যোগ্য। এছাড়া প্রফেশনাল এবং টেকনিক্যাল যোগ্যতার প্রার্থীরা ওপরে বলা শিক্ষাগত যোগ্যতার সমতুল হলেও আবেদনের যোগ্য। শুরুতে ইঝিমালায় ৪৪ সপ্তাহের ন্যাভাল ওরিয়েন্টেশন কোর্স।
ট্রেনিং চলাকালীন ইন্ডিয়ান মিলিটারি অ্যাকাডেমি এবং অফিসার্স ট্রেনিং অ্যাকাডেমির ক্ষেত্রে স্টাইপেন্ড মাসে ৫৬,১০০ টাকা। শুরুতে আর্মি অফিসারদের (লেফটেনান্ট) এবং এয়ারফোর্স ও নেভিতে সমতুল রাঙ্কের মাইনে ৫৬,১০০ – ১,৭৭,৫০০ টাকা। সঙ্গে ব্রিগেডিয়ার পদ পর্যন্ত মিলিটারি সার্ভিস পে ১৫,৫০০ টাকা। মেজর জেনারেল রাঙ্ক পর্যন্ত পদোন্নতির সুযোগ আছে। তখন মূল মাইনে ১,৪৪,২০০ – ২,১৮,২০০ টাকা।
তরুণদের উচ্চতা আর্মির ক্ষেত্রে অন্তত ১৫৭.৫ সেমি, নেভির ক্ষেত্রে অন্তত ১৫৭ সেমি এবং এয়ারফোর্সের ক্ষেত্রে অন্তত ১৬২.৫ সেমি হতে হবে। তরুণীদের উচ্চতা অন্তত ১৫২ সেমি হতে হবে। গোর্খা ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের পার্বত্য এলাকার প্রার্থী, গাড়োয়াল এবং কুমায়ুন প্রার্থীরা উচ্চতায় ৫ (লাক্ষাদ্বীপের ক্ষেত্রে ২) সেিম ছাড় পাবেন। সুঠাম শরীর হতে হবে। কেবল তরুণদের বুকের ছাতি অন্তত ৫ সেমি ফোলানোর ক্ষমতা থাকা চাই। আমি ও নেভির ক্ষেত্রে পায়ের দৈর্ঘ্য প্রযোজ্য নয়। এয়ারফোর্সের ক্ষেত্রে পায়ের দৈর্ঘ্য ৯৯ থেকে ১২০ সেমির মধ্যে হতে হবে। থাইয়ের দৈর্ঘ্য থাকতে হবে ৬৪ সেমির মধ্যে। এছাড়া বসে থাকা অবস্থায় উচ্চতা হওয়া চাই ৮১.৫ থেকে ৯৬ সেমির মধ্যে। বুকের এক্স-রে করা আবশ্যিক। শ্রবণশক্তি স্বাভাবিক হওয়া চাই। প্রাকৃতিক দাঁতের গঠন হতে হবে। অন্তত ১৪ ডেন্টাল পয়েন্ট গ্রহণযোগ্য।
দৃষ্টিশক্তি– এয়ারফোর্সের ক্ষেত্রে চশমা ছাড়া দূরের দৃষ্টি একচোখে ৬/৬ অন্যচোখে ৬/৯ হতে হবে। কেবল হাইপারমেট্রোপিয়ার ক্ষেত্রে তা ৬/৬ পর্যন্ত সংশোধন যোগ্য। রং চেনার ক্ষমতা হতে হবে CP-I মানের। টশমা থাকলে এয়ারফোর্সে আবেদন করা যাবে না। নেভির ক্ষেত্রে চশমা ছাড়া দূের দৃষ্টি দুচোখে ৬/১২ এবং চশমা-সহ ৬/৬ পর্যন্ত সংশোধন যোগ্য হওয়া চাই। মায়োপিয়া থাকলে তা -1.5D এবং হাইপারমেট্রোপিয়া থাকলে তা +1.5D -এর মধ্যে হতে হবে। নৌ, বায়ু এবং সেনার ক্ষেত্রে লাল ও সবুজ রং চেনার স্বাভাবিক ক্ষমতা এবং শ্রবণশক্তি স্বাভাবিক হতে হবে। নিখুঁত শারীরিক গঠন ও মানসিক স্বাস্থ্য থাকা চাই।
প্রার্থিবাছাই হবে লিখিত পরীক্ষা, ইন্টারভিউ এবং ডাক্তারি পরীক্ষার মাধ্যমে। পরীক্ষা হবে কলকাতা-সহ অন্যান্য রাজ্যের পরীক্ষকেন্দ্রগুলিতে। ইন্ডিয়ান মিলিটারি, ইন্ডিয়ান ন্যাভাল এবং এয়ারফোর্স অ্যাকাডেমির ক্ষেত্রে লিখিত পরীক্ষায় থাকবে মোট ১০০ নম্বরের ইংলিশ, মোট ১০০ নম্বরের জেনারেল নলেজ এবং মোট ১০০ নম্বরের এলিমেন্টারি ম্যাথমেটিক্স বিষয়ের প্রশ্ন। প্রতিটি বিষয়ের উত্তরের জন্য সময় পাবেন ২ ঘণ্টা করে। অফিসার্স ট্রেনিং অ্যাকডেমির লিখিত পরীক্ষায় থাকবে মোট ১০০ নম্বরের ইংলিশ এবং মোট ১০০ নম্বরের জেনারেল নলেজের প্রশ্ন। প্রতিটি বিষয়ের উত্তরের জন্য সময় পাবেন ২ ঘণ্টা করে। এলিমেন্টারি ম্যাথমেটিক্সে থাকবে – পাটিগণিত, বীজগণিত. ত্রিকোণমিতি, জ্যামিতি, পরিমিতি, রাশিবিজ্ঞান বিষয়ের প্রশ্ন। মাধ্যমিক মানের জেনারেল নলেজ এবং এলিমেন্টারি ম্যাথমেটিক্স বিষয়ের প্রশ্ন হবে হিন্দি ও ইংরেজিতে। নেগেটিভ মার্কিং আছে। প্রতিটি ভুল উত্তরের জন্য ০.৩৩ নম্বর কাটা যাবে।
পরীক্ষা হবে কলকাতা, আগরতলা, চণ্ডীগড়, কটক, দিশপুর, ইম্ফল, ইটানগর, জোরহাট, কোহিমা, পোর্ট ব্লেয়ার, রাঁচি, শিলং, শিমলা-সহ দেশের অন্যান্য পরীক্ষা কেন্দ্রে। লিখিত পরীক্ষায় সফলদের এরপর হবে ৩০০ নম্বরের (অফিসার্স ট্রেনিং অ্যাকাডেমির ক্ষেত্রে ২০০ নম্বরের) ইন্টেলিজেন্স অ্যান্ড পার্সোনালিটি টেস্ট। এই পরীক্ষা হবে ২টি পর্যায়ে। প্রথম পর্যায়ে থাকবে অফিসার ইন্টেলিজেন্স রেটিং টেস্ট এবং পিকচার পার্সেপশন ডেসক্রিপশন টেস্ট। ২য় পর্যায়ে থাকবে ইন্টারভিউ, গ্রুপ টেস্টিং অফিসার টাস্ক, সাইকোলজিক্যাল টেস্ট এবং কনফারেন্স। ৪ ধরে চলবে এই পরীক্ষা। এছাড়া দৌড়, স্কিপিং, পুশআপ, সিট আপ, চিন আপ, রোপ ক্লাইম্বিং ইত্যাদি শারীরিক সক্ষমতার পরীক্ষা হবে। পরীক্ষার ই-অ্যাডিমট কার্ড পাবেন http://upsc.gov.in ওয়েবসাইটে।
দরখাস্তের ফি বাবদ দিতে হবে ২০০ টাকা। অনলাইনে ফি দেবেন স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়ার নেট ব্যাঙ্কিং কিংবা ভিসা/ মাস্টার/ রূপে ক্রডিট বা ডেবিট কার্ডের মাধ্যমে অথবা অফনাইনে চালানের মাধ্যমে নগদে ২৪ অগস্টের মধ্যে।
দরখাস্ত করবেন অনলাইনে www.upsconline.nic.in ওয়েবসাইটের মাধ্যমে, ২৫ অগস্ট সন্ধে ৬টার মধ্যে। এরজন্য প্রার্থীর একটি বৈধ ই-মেল আইডি এবং মোবাইল নম্বর থাকা চাই। দরখাস্ত করার সময় আগে করে পাসপোর্ট মাপের ছবির (৩০০ কেবি সাইজের মধ্যে) ও সইয়ের (২০ কেবি সাইজের মধ্যে) স্ক্যান আপলোড করতে হবে।
প্রয়োজনে দরখাস্ত প্রত্যাহার করতে পারবেন ১ থেকে ৭ সেপ্টেম্বর সন্ধে ৬টা পর্যন্ত। আরও বিস্তারিত তথ্য পাবেন ওয়েবসাইটে।
পিডিএফ ডাউনলোড করতে ক্লিক করুন: এখানে
অনলাইন আবেদন করুন: ।। পার্ট-১ রেজিস্ট্রেশন ।। পার্ট-২ রেজিস্ট্রেশন ।।

